শান্তি ও সম্প্রীতি

শান্তি ও সম্প্রীতি এই দু’টি একটি সুস্হ মানব সমাজের অবিচ্ছেদ্য  অংশ। সমাজে যদি শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা না যায় তাহলে সম্প্রীতি নষ্ট হয় যা সমাজের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে।

শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো ন্যায় বিচার ও পারষ্পরিক শ্রদ্ধার অভাব।যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো অন্যায়ের শিকার হয়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয় তখন সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতাবোধ এবং বিচার ব্যবস্হার প্রতি আস্হাহীনতা তৈরি হয় যা সমাজের দীর্ঘস্হায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পরমতসহিষ্ণুতার  অভাব সঙ্কীর্ণ  সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।সাম্প্রদায়িকতা অনেক ধরনের হতে পারে।ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক,গোত্রীয় সাম্প্রদায়িক,রাষ্ট্রীয়  সাম্প্রদায়িক থেকে শুরু করে বর্ণ, লিঙ্গ,রাজনৈতিক মতাদর্শ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে মানুষেরর মন সাম্প্রদায়িক চিন্তায় কুলষিত থাকতে পারে।

শান্তি-সম্প্রীতি এবং সমৃদ্ধি  একে অন্যের সম্পূরক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য শান্তি -সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা তথা অসাম্প্রদায়িক  চেতনার ব্যাপক বিকাশ দরকার কারণ কোনো  দেশে সাম্প্রদায়িক  সুসম্পর্ক  বজায়  না রেখে কোনো  উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন  করা সম্ভব নয়।সাম্প্রদায়িকতা মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক  ও জাতীয় উন্নতির অন্তরায়।জাতীয় অর্থনৈতিক  ও সামাজিক  স্হিতিশীলতার জন্য শান্তি ও সাম্প্রদায়িক  সম্প্রীতি অপরিহার্য। কাজেই  শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাম্প্রদায়িক  সম্প্রীতি বিকাশের বিকল্প নেই।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিকাশের  জন্য পারষ্পরিক  শ্রদ্ধাবোধ,আন্তরিক মেলামেশা, পরোপকারী  মনোভাব,ধর্ম-বর্ণ,জাতি-গোত্রভেদ উপেক্ষা করে সবার আগে আমাদের মানবসত্তাটাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এই পৃথিবী  জাতি-ধর্ম-বর্ণ  নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি।পৃথিবীতে বাইরের চেহারায় মানুষের মধ্যে সাদা-কালো ব্যবধান  থাকলেও সব মানুষের ভেতরের রং এক এবং অভিন্ন।তবু মানুষ জাতিভেদে,গোত্রভেদ,বর্ণভেদ,বংশকৌলীন্য ইত্যাদি কৃত্রিম পরিচয়ে নিজেদের  মানুষ  পরিচয়টিকে সংকীর্ণ  ও গণ্ডি-বদ্ধ করে ফেলে।কিন্তু সারাবিশ্বেরর সঙ্গে মানুষের যে সম্পর্ক সেই বিচারে মানুষের আসল পরিচয়  হচ্ছে সে মানুষ। তাই দেশে দেশে, মানুষে মানুষে ধর্ম  ও বর্ণের পার্থক্য  সৃষ্টি করে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি  করা উচিত নয়।আমাদের প্রতিটি নাগারিকের প্রধান কর্তব্য  হলো সাম্প্রদায়িক  সম্প্রীতি বন্ধনকে মজবুত করে সুপ্রতিষ্ঠিত করে তোলা।তাতেই সবার কল্যাণ ও মঙ্গল নিহিত।

শান্তি এবং সম্প্রীতি নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং খাদ্য, বস্ত্র,বাসস্হানের মতো অত্যন্ত মৌলিক একটি প্রয়োজনীয়তা।শান্তি ও সম্প্রীতিই যদি নিশ্চিত করা না যায়,যদি মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা না যায়,যদি মানুষের নির্বিঘ্নে মতামত প্রকাশ এবং বিভিন্ন মতের সহাবস্থান যদি নিশ্চিত করা না যায় তাহলে মানবসভ্যতার এত এত উন্নতি ও বিকাশ মিথ্যা হয়ে যায়;হাজার বছরের মানব সভ্যতার পথচলা অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়।

সৃষ্টির উষালগ্নে মানুষ  যেমন বিভিন্ন  কারণে নিরাপত্তা -হীনতায় ভুগতো,হাজার হাজার বছরের পথ-পরিক্রমা  ও বিবর্তন  শেষে যদি আজ এই তথাকথিত  সভ্য ও আধুনিক সমাজে ও মানুষ  নিরাপত্তা -হীনতায়  ভুগে তবে সেটি মানবসভ্যতার  সকল অর্জনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

The two most important characteristic features of a healthy society are peace and solidarity. The social functioning gets disrupted if proper legislative system is not implemented.

The hurdle in the way of harmony is lack of respect among the communities. When a particular community is deprived of their rights, including proper legal facility they develop a certain kind of displeasure towards the society. Disrespect within the communities and absence of co-operation creates narrow mindedness. The balance of harmony doesn’t depend on any one reason. Secularity, castes, racism, gender biasness can create the obstruction for harmonious existence.

Growth and harmony are two sides of the same coin. For the development of both National and International sectors solidarity is necessary as discontent and disharmony prevents development. To maintain the social balance mutual respect, harmonious coexistence, friendly interaction, helpfulness are important, crossing the barriers of caste, creed, religion and gender. Humanity should be the only identity.

In this world people with great diversity reside together. Each race has their unique features. While coping up with religious and racial discriminations people tends to forget the small acts of humanity. The principal duty of each man is to maintain solidarity keeping the differences aside. This is the only step that needs to be taken for the welfare of the society.

Maintenance of peace and solidarity is not at all a luxury. After the three basic needs of food, clothing and shelter peace and solidarity occupies the fourth important place. If a man cannot freely present his thoughts and communicate his ideas the concept of democracy gets hampered and the growth of entire human race gets disrupted.

People suffered from existential crisis in the olden times. The civilization faces serious question if it is continued even today.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *